google-site-verification: google289d1aa869ae163c.html পথিক কার জন্য অপেক্ষা।

Followers

Monday, 4 May 2020

রিয়া কি? রিয়া থেকে বাঁচার উপায়। রিয়া কত প্রকার ও কি কি দেখানো আমল পর্ব ২

 রিয়া পার্ট ২


যে ইবাদত রিয়া মিশ্রিত হয় তা তিন প্রকার:*

 *প্রথম প্রকার:* ইবাদত মূলত: লোক দেখানোর উদ্দেশ্যেই করা হয়। যেমন মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সালাত আদায় করা। ইহা শিরক এবং এ প্রকার ইবাদত বাতিল। 

 *দ্বিতীয় প্রকার:* ইবাদত করার মধ্যবর্তী অবস্থায় রিয়ায় পতিত হওয়া। অর্থাৎ- যেমন ইবাদত শুরুর সময় মুখলিসভাবে আরম্ভ করে কিন্তু ইবাদতের মধ্যবর্তী সময়ে রিয়া মিশ্রিত হয়। 

*এ অবস্থায় ইবাদতের প্রকারভেদ অনুযায়ী তার হুকুম নির্ধারিত হবে।* যেমন,

🔸 (১) যদি দ্বিতীয় ইবাদতটি ১মটির উপর ভিত্তিশীল না হয় তবে প্রথমটি শুদ্ধ হবে আর দ্বিতীয়টি বাতিল হয়ে যাবে। এর উদাহরণ হল, যেমন কোন ব্যক্তি একশত রিয়াল দান করল ইখলাসের সাথে, আরও একশত রিয়াল দান করল লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে, এমতাবস্থায় প্রথম একশত রিয়াল দানটি শুদ্ধ হবে। আর দ্বিতীয় একশত রিয়াল দানটি বাতিল হয়ে যাবে।

🔸 (২) যদি ইবাদতটির শেষাংশ প্রথমাংশের উপর ভিত্তিশীল হয় তবে এর দুটি অবস্থা। যথা:

  ▪ (ক) ইবাদত কারী ব্যক্তি রিয়াকে প্রতিহত করবে এবং রিয়ার উপর স্থির হবে না। যেমন কোন ব্যক্তি সালাতে দাঁড়াল মুখলিছভাবে কিন্তু দ্বিতীয় রাকাত কালীন স্বীয় অন্তরে রিয়া অনুভব করল, অতঃপর সালাত আদায়কারী স্বীয় অন্তরে রিয়া অনুভব করতে থাকল, এমতাবস্থায় রিয়া ইবাদতে কোন প্রকার প্রভাব ফেলবে না, অথবা কোন ক্ষতিও করবে না।

  ▪ (খ) অপর অবস্থাটি হল: ইবাদত কারী রিয়ার প্রতি তুষ্ট থাকবে এবং রিয়াকে অন্তরে প্রতিহত করবে না। এমতাবস্থায় তার পূর্ণ ইবাদতটি বাতিল হয়ে যাবে। কেননা ইবাদতের শেষাংশ প্রথমাংশের উপর ভিত্তি শীল। যেমন কোন ব্যক্তি সালাতে দাঁড়াল ইখলাসের সাথে, অতঃপর দ্বিতীয় রাকাতে সে যখন লক্ষ্য করল মানুষ তার সালাতের দিকে দৃষ্টি দিয়েছে, তখন তার অন্তরে রিয়ার উদয় হল এবং সালাত রত উক্ত ব্যক্তি রিয়ার প্রতি তুষ্ট থাকল (অন্তরে রিয়াকে প্রতিহত করল না) এমতাবস্থায় পূর্ণ সালাত বাতিল হয়ে যাবে। কেননা সালাতের শেষাংশের সাথে প্রথমাংশ সম্পৃক্ত রয়েছে। 


*তৃতীয় প্রকার:* ইহা হল ইবাদত সমাপ্ত করার পর যদি ইবাদত কারীর অন্তরে রিয়ার উদ্ভব ঘটে, তবে তা ইবাদতে কোন প্রকার প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু যদি ইবাদতের সাথে সংঘর্ষকারী কিছু করে তবে ইবাদতটি বাতিল হয়ে যাবে। যেমন দান খয়রাত করার পর দান গ্রহণকারীকে খোঁটা দেয়া, গনা করা বা এ প্রকার কোন দুঃখ-কষ্ট ইত্যাদি দেয়া। 


অনুবাদক: শাইখ আব্দুল্লাহ আল কাফী বিন আব্দুল জলীল মাদানী

সম্পাদনা: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল মাদানী

Wednesday, 23 October 2019

৩৬টি বড় ১৯টি ছোট শিরক আছে ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় করুক, যদি কেউ ত‌ওবা না করে মারা যায় তার পরিণাম হবে ভয়াবহ জাহান্নাম।


যে  সকল শিরক করলে ত‌ওবা ব্যতীত আল্লাহ ক্ষমা করেন না। 

যদি কেউ এই ধরনের শিরক করে ত‌ওবা করে না মরে যায় তার পরিণাম জাহান্নাম। 

আল্লাহ আমাদের সকলকে এই ধরনের কাজ থেকে বিরত রাখুন 


৩৬ টি বড় শিরক। 


উক্ত শির্ক এতে লিপ্ত যে কোন ব্যক্তিকে ইসলামের গন্ডী থেকেই বের করে দেয়। আল্লাহ্ তা‘আলা তাওবা ছাড়া এ ধরনের শির্ক কখনো ক্ষমা করবেন না।

তিনি বলেন:

‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সাথে কাউকে শরীক করা কখনো ক্ষমা করবেন না। তবে তিনি এ ছাড়া অন্যান্য সকল গুনাহ্ যাকে ইচ্ছে ক্ষমা করে দিবেন’’। (নিসা: ৪৮)

এ ধরনের শির্কে লিপ্ত ব্যক্তির জন্য জান্নাত হারাম। জাহান্নামই হবে তার চিরস্থায়ী ঠিকানা।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

‘‘নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলার সাথে কাউকে শরীক করে আল্লাহ তা‘আলা তার উপর জান্নাতকে হারাম করে দেন এবং জাহান্নামকে করেন তার চিরস্থায়ী ঠিকানা। আর এরূপ অত্যাচারীদের তখন আর কোন সাহায্যকারী থাকবে না’’। (মায়িদাহ: ৭২)

বড় শির্কগুলো সংক্ষিপ্তাকারে নিম্নরূপ:

১. একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলা ছাড়া অন্য কাউকে আহবান করার শির্ক।

২. বিপদের সময় একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলা ছাড়া অন্য কারোর নিকট ফরিয়াদ করার শির্ক।

৩. একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলা ছাড়া অন্য কারোর নিকট আশ্রয় প্রার্থনার শির্ক।

৪. একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলা ছাড়া অন্য কারোর নিকট আশা ও বাসনার শির্ক।

৫. একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলা ছাড়া অন্য কারোর নিকট সাহায্য প্রার্থনার শির্ক।

৬. একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলা ছাড়া অন্য কারোর জন্য রুকু, সিজ্দাহ্, তার সামনে বিনম্রভাবে দাঁড়ানো, নামায ইত্যাদির শির্ক।

৭. একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলার ঘর কা’বাহ্ শরীফ ছাড়া অন্য কোন ঘর বা মাযারের তাওয়াফ করার শির্ক।

৮. একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলা ছাড়া অন্য কারোর নিকট তাওবাহ্ করার শির্ক।

৯. একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলা ছাড়া অন্য কারোর জন্য কোন পশু জবাইয়ের শির্ক।

১০. একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলা ছাড়া অন্য কারোর জন্য কোন কিছু মানত করার শির্ক।

১১. একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলা ছাড়া অন্য কারোর একচ্ছত্র আনুগত্য করার শির্ক।

১২. একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলা ছাড়া অন্য কাউকে এককভাবে ভালোবাসার শির্ক।

১৩. একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলা ছাড়া অন্য কাউকে এককভাবে ভয় করার শির্ক।

১৪. একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলা ছাড়া অন্য কারোর উপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভরতা বা তাওয়াক্কুলের শির্ক।

১৫. একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলার অনুমতি ছাড়া অন্য কেউ কারোর জন্য  কিয়ামতের দিন সুপারিশ করতে পারে এমন মনে করার শির্ক।

১৬. একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলা ছাড়া অন্য কেউ কাউকে হিদায়াত দিতে পারে এমন মনে করার শির্ক।

১৭. কবর পূজার শির্ক।

১৮. আল্লাহ্ তা‘আলা নিজ সত্তা সহ সর্বস্থানে রয়েছেন এমন মনে করার শির্ক।

১৯. একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলা ছাড়াও বিশ্ব পরিচালনায় অন্য কারোর হাত রয়েছে এমন মনে করার শির্ক।

২০. একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলা ছাড়াও অন্য কোন ব্যক্তি বা দল শরীয়তের বিশুদ্ধ কোন প্রমাণ ছাড়া নিজ মেধা ও বুদ্ধির আলোকে কোন জাতি বা সম্প্রদায়ের জন্য জীবন বিধান রচনা করতে পারে এমন মনে করার শির্ক।

২১. একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলা ছাড়াও কেউ কাউকে ধনী বা গরিব বানাতে পারে এমন মনে করার শির্ক।

২২. কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তা‘আলার কাছ থেকে কেউ কারোর গুনাহ্সমূহ ক্ষমা করিয়ে নিতে পারবে এমন মনে করার শির্ক।

২৩. কিয়ামতের দিন কেউ কাউকে আল্লাহ্ তা‘আলার কঠিন আযাব থেকে রক্ষা করতে পারবে এমন মনে করার শির্ক।

২৪. একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলা ছাড়াও অন্য কোন গাউস-ক্বুতুব দুনিয়া, আখিরাত, জান্নাত, জাহান্নাম, লাওহ্, ক্বলম, ‘আর্শ, কুর্সী তথা সর্ব স্থানের সর্ব কিছু দেখে বা শুনে এমন মনে করার শির্ক।

২৫. একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলা ছাড়াও অন্য কেউ গায়েব জানে বা কখনো কখনো তার কাশ্ফ হয় এমন মনে করার শির্ক।

২৬. একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলা ছাড়াও অন্য কেউ কারোর অন্তরের লুক্কায়িত কথা বলে দিতে পারে এমন মনে করার শির্ক।

২৭. একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলা ছাড়াও অন্য কেউ কাউকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দিতে পারে এমন মনে করার শির্ক।

২৮. একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলা ছাড়াও অন্য কেউ কারোর অন্তরের সামান্যটুকু পরিবর্তন ঘটাতে পারে এমন মনে করার শির্ক।

২৯. একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলার ঘর মসজিদ ছাড়াও অন্য কোন মাজারের খাদিম হওয়া যায় এমন মনে করার শির্ক।

৩০. একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলার ইচ্ছা ছাড়াও অন্য কারোর ইচ্ছা স্বকীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে এমন মনে করার শির্ক।

৩১. একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলা ছাড়াও কেউ কাউকে সন্তান-সন্ততি দিতে পারে এমন মনে করার শির্ক।

৩২. একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলা ছাড়াও কেউ কাউকে সুস্থতা দিতে পারে এমন মনে করার শির্ক।

৩৩. একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলার তাওফীক ছাড়াও কেউ ইচ্ছে করলেই কোন নেক আমল করতে পারে এমন মনে করার শির্ক।

৩৪. একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলার ইচ্ছা ছাড়াও কেউ কারোর কোন লাভ বা ক্ষতি করতে পারে এমন মনে করার শির্ক।

৩৫. একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলা ছাড়াও কেউ কাউকে জীবন বা মৃত্যু দিতে পারে এমন মনে করার শির্ক।

৩৬. একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলা ছাড়াও অন্য কোন ব্যক্তি সর্বদা জীবিত রয়েছে বা থাকবে এমন মনে করার শির্ক।

১৯টি ছোট শিরক। 

ছোট শির্ক বলতে এমন কাজ ও কথাকে বুঝানো হয় যা তাতে লিপ্ত ব্যক্তিকে ইসলামের গন্ডী থেকে সম্পূর্ণরূপে বের করে দিবে না বটে। তবে তা কবীরা গুনাহ্ তথা মহা পাপ অপেক্ষা আরো জঘন্যতম।

আল্লাহ্ বলেন

‘‘সুতরাং তোমরা আল্লাহ্ তা‘আলার সাথে কাউকে শরীক করো না। অথচ তোমরা এ সম্পর্কে সম্যক অবগত রয়েছো’’। (বাক্বারাহ্ : ২২)

‘আব্দুল্লাহ্ বিন্ ‘আববাস্ (রাযিয়াল্লাহু আন্হুমা) উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন:

‘‘‘আন্দাদ্’’ বলতে এমন শির্ককে বুঝানো হচ্ছে যা অন্ধকার রাতে কালো পাথরে পিঁপড়ার চলন চাইতেও সূক্ষ্ম। যা টের পাওয়া খুবই দুরূহ। যেমন: তোমার এ কথা বলা যে, হে অমুক! আল্লাহ্ তা‘আলা এবং তোমার ও আমার জীবনের কসম! অথবা এ কথা বলা যে, যদি এ কুকুরটা না হতো তা হলে (আজ রাত) চোর অবশ্যই আসতো। যদি ঘরে হাঁসগুলো না থাকতো তা হলে (আজ রাত) চোর অবশ্যই ঢুকতো অথবা কারোর নিজ সাথীকে এ কথা বলা যে, আল্লাহ্ তা‘আলা এবং তুমি না চাইলে কাজটা হতো না অথবা কারোর এ কথা বলা যে, আল্লাহ্ তা‘আলা এবং অমুক না থাকলে কাজটা হতো না। অমুক শব্দটি সাথে লাগাবে না। (বরং বলবে: আল্লাহ্ তা‘আলা যদি না চাইতেন কাজটা হতো না)। কারণ, এ সব কথা শির্কের অন্তর্গত’’।

ছোট শির্কগুলো সংক্ষিপ্তাকারে নিম্নরূপ:

১. কোন বিপদাপদ থেকে বাঁচার জন্য সুতা বা রিং পরার শির্ক।

২. শির্ক মিশ্রিত মন্ত্র দ্বারা ঝাড়-ফুঁকের শির্ক।

৩. তাবিজ-কবচের শির্ক।

৪. শরীয়ত অসম্মত বস্ত্ত বা ব্যক্তি কর্তৃক বরকত গ্রহণের শির্ক।

৫. যাদুর শির্ক।

৬. ভাগ্য গণনার শির্ক।

৭. জ্যোতিষীর শির্ক।

৮. চন্দ্র বা অন্য কোন গ্রহের অবস্থানক্ষেত্রের পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টি হয় এমন মনে করার শির্ক।

৯. আল্লাহ্ তা‘আলার যে কোন নিয়ামত অস্বীকার করার শির্ক।

১০. কোন প্রাণীর বিশেষ কোন আচরণে অমঙ্গলের আশংকা রয়েছে এমন মনে করার শির্ক।

১১. শরীয়ত অসম্মত কোন বস্ত্ত বা ব্যক্তির ওয়াসীলা ধরার শির্ক।

১২. নামায ত্যাগের শির্ক।

১৩. আল্লাহ্ তা‘আলা এবং তুমি না চাইলে কাজটা হতো না এমন বলার শির্ক।

১৪. আল্লাহ্ তা‘আলা ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তি বা বস্ত্তর নামে কসম খাওয়ার শির্ক।

১৫. যুগ বা বাতাসকে গালি দেয়ার শির্ক।

১৬. কোন ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর ‘‘যদি এমন করতাম তা হলে এমন হতো না’’ বলার শির্ক।

১৭. কোন নেক আমল দুনিয়া কামানোর নিয়্যাতে করার শির্ক।

১৮. কোন নেক আমল আল্লাহ্ ভিন্ন অন্য কারোর সন্তুষ্টির জন্য করার শির্ক।

১৯. কোন নেক আমল কাউকে দেখানো বা শুনানোর জন্য করার শির্ক।

মহান আল্লাহ আমাদের সকল প্রকার শিরক থেকে হেফাজত করুন আমিন সুম্মা আমিন

Tuesday, 22 October 2019

আজ মুসলিম শাসকরা ক্ষমতার লোভে মাতাল।

জাপানের এক প্রবীণ মানবাধিকার কর্মী
লিখেছিল। 

বার্মা যখন লক্ষ-লক্ষ নিরীহ মুসলমান কে
হত্যা করল"" লক্ষ-লক্ষ মুসলমানকে দেশান্তরী
করল"হাজার ও মুসলিম নারীকে ধর্ষণ করল
তখন পৃথিবীতে ৫০টির ও বেশি মুসলিম দেশ
১৮০ কোটি মুসলমান থাকা সত্যেও বার্মা কোন
বাধার সম্মুখীন হলনা।
এতে প্রমাণিত হল মুসলিম শাসকেরা ক্ষমতার লোভে
মাতাল।
তারা ধর্মীয় ভাবে"মানবিক ভাবে" নৈতিক ভাবে
মৃত্যুবরণ করেছে।
বেঁচে আছে শুধু নিষ্কৃয় দৈহিক,  যে দেহে
ধর্ম"মানবতা" নৈতিকতা বলতে কিছুই নেই
আছে শুধু ক্ষমতার লোভ প্রাচুর্যের ভালবাসা।


মুসলিম গাদ্দার শাসকগোষ্ঠীর নীরবতা এঁদের কে সীমাহীন অপরাধ করার সাহস যুগিয়েছে, তাই বার্মিজ সন্ত্রাসীদের চেয়েও ঐ সকল মুসলিম শাসকদের শাস্তি লাঞ্ছনা বহুগুণ বেশী হবে। কোন সন্দেহ নাই।!

আজ মুসলিম শাসকরা শিয়ালের মত নত জানো আচরণ করতেছে, তাদের কিসের ভয় তার ইসলামের শিক্ষা থেকে দূরে চলে গেছে। তারা তাদের নবী সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লামের অপমানে তাদের গায়ে লাগে না। 

Sunday, 6 October 2019

বিবর্তনবাদ যদি সত্য হতো। সঠিক তথ্য জানতে।

#বিবর্তনবাদের_গায়েবীতত্ত্বও_ইসলাম_এবং_সভ্যতার_দ্বন্দ্ব!

#আধুনিক_সেক্যুলার_বিজ্ঞানীগণ_বিবর্তনের_গায়েবী_তত্ত্বে_অদ্ভূত_রকমভাবে_বিশ্বাসী!

“আমার দাদা যখন আমার মতো যুবক ছিলেন তখন খুব শখ করে একখানা রঙ্গিন শার্ট কিনেছিলেন দাদীকে দেখতে যাওয়ার আগের দিন। কিন্তু মুরুব্বীদের ধমকে ক্লাসিকাল কুর্তাই পরতে হলো পরের দিন, আর শার্টখানা স্থায়ী নিবাস গড়ে নিলো লোহার সিন্দুকের তলায়। দিন, মাস, বছর গেছে; গেছে যুগের পর যুগ; স্থান-কালের হামাগুড়িতে কত গ্রহণ-বর্জন, বর্ষণ, ঘর্ষণ, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ঘটে গেছে; ঘটে চলেছে সিন্দুকখানির বাইরে আর ভেতরে।
.
যাই হোক, আমাদের ফোকাস যেহেতু শার্টখানা, তাই গল্পের মূলে ফিরে যাচ্ছি। বাবার মুখে শোনার পর ভার্সিটির শীতকালীন ছুটিতে এবার গ্রামে এসে খুব  উৎসুকভাবে আমি সিন্দুকটি খুললাম। জং ধরা কড়া ভাঙতে হলো, বাইরের দেয়ালে ভারী মাকড়শার জাল, ভেতরে তেলাপোকার ডিম আর লোমহীন তুলতুলে শিশু ইঁদুরদের দৌরাত্ম দেখে বুঝলাম অনেক আগেই সিন্দুকের তলায় জং ধরে ছিদ্র হয়ে ছিলো।
.
বুঝতেই পারছেন আমাদের গল্পের ফোকাস – রোমান্স মাখা সেই বর্ণিল শার্টখানা কত ঝড়ঝাপটার মধ্য দিয়ে গেছে। কিন্তু চক্ষু-চড়কগাছ, আমি আবিষ্কার করলাম, দীর্ঘ সময়ের বায়োফিজিকোকেমিক্যাল ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় শার্টখানা একটি রঙ্গিন ব্লেজারে পরিণত হয়েছে যার মধ্যে ছাপার হরফে ব্রান্ড লেখা ‘John Lewis’.
.
অবাক হচ্ছেন?
কিন্তু এটাই বাস্তবতা।
মানতে পারছেন না?
দেখুন আপনার পরনের শার্টখানাও কিন্তু ফেলে রাখলে ময়লা হবে, লোহার জং থেকে তাতে লালচে দাগও পড়ে, পানিতে অনেক দিন থাকলে পঁচে যাবে তথা সময়ের সাথে পরিবেশের পরিবর্তনে বিভিন্ন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার ফলে তাতে পরিবর্তন আসবেই।
আপনার অকপট জিজ্ঞাসা – তাই বলে শার্ট কি ব্লেজারে বদলে যাবে?
আরে ভাই, ওই যে ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো যেগুলো আমরা প্রতিনিয়ত দেখি – সেগুলোই দীর্ঘ … মানে অনেক দীর্ঘ কিন্তু … মানে মনে করেন কয়েক বিলিয়ন বছর ধরে সিলেকশনের ফলে সুতা, কাপড়, সাইজ, শেপ, কাটিং, ডিজাইন চেঞ্জ হয়ে শার্টখানা ‘John Lewis’ এর ব্লেজারে পরিণত হয়েছে।
.
আপনি ছানাবড়া চোখে দুষ্টু ছেলের বোকামির মতো প্রশ্ন করে বসলেন – ওই মিয়া! এইডা কী কন? আপনের দাদার লগে আপনের বিলিয়ন বছরের ফারাক, আপনের দাদায় কি ডাইনোসর আছিলো, আপনে ডাইনোসরের নাতি!!!”
.
গল্প আপাতত এখানেই সমাপ্ত। আসুন এবার এই গল্পের অসারতা বনাম যৌক্তিকতা নিয়ে একটি গণভোট আয়োজন করি। আধুনিক বিজ্ঞানমনষ্ক(!) মানে রেডিকাল-বস্তুবাদী চেতনাকে পুঁজি করে একের পর এক টিভি কমার্শিয়াল, মোড়ে মোড়ে রঙ্গিন বিলবোর্ড, ব্যানার, নিয়মিত আলোচনা সভা, প্রাইমারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সিলেবাস চেঞ্জ এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে সিভিল সোসাইটি, পলিটিকাল এসেম্বলি আর বিজ্ঞান সভার সদস্যদেরকে ইনভল্ভ করে ব্যাপক প্রচারণা বা জনসচেতনতা(!) তৈরির পর ভোটের ফলাফল বেশ অনুমেয়।
.
আর সেই সাথে যুক্ত হবে – ঠিক বেঠিকের মানদণ্ড হচ্ছে জনগণের ইচ্ছা বা রায়, মানে মেজরিটি চাইলেই বেঠিকও ঠিক গণ্য হবে। এই প্রেক্ষাপটে আমি যদি একবার আমার গল্পটা যৌক্তিক এবং বিজ্ঞাননির্ভর – এই বিলটা পাশ করিয়ে ফেলতে পারি তাহলেই আমি সর্বেসর্বা, সকল প্রশ্নের উর্ধ্বে। বরং আমার গল্পে অসারতা খুজতে আসলেই আপনি অজ্ঞ এবং কুসংস্কারবাদী।
.
গল্পের ঢেঁকি ফেলে চলুন এবার একটু ইতিহাস ঘাঁটি। মধ্যযুগের ইউরোপ – জ্ঞান বিজ্ঞানের আলোহীন এক অন্ধকূপ। যেখানে বিজ্ঞানচর্চা মৃত্যুদণ্ডতুল্য অপরাধ, যেখানে নারীর অধিকার হচ্ছে ডাইনি আখ্যা নিয়ে আগুনে পুড়ে মরা, যেখানে হেলথ ইনস্যুরেন্স হচ্ছে মহামারিতে এক-তৃতীয়াংশ জনসংখ্যা কমে যাওয়া, যেখানে সামাজিক নিরাপত্তা মানে জীর্ণশীর্ণ-রোগাক্রান্ত জনগণের ওপর অত্যাচারের গিলোটিন, যেখানে অর্থনীতি হচ্ছে সাধারণের রক্ত-ঘামের ফসলের ওপর চার্চের আর রাজ-রাজড়াদের করের পাহাড়।
.
শত শত বছর ধরে এভাবেই অন্ধকার ইউরোপ ছিল ক্যাথলিক চার্চের নিয়ন্ত্রণে। ধর্মের এই শোষণোন্মুখ, হিংস্র, মানবতাবিরোধী আচরণে ভারাক্রান্ত ইউরোপের ইতিহাসকে এক কথায় ইংরেজ ইতিহাসবিদ এডওয়ার্ড গিবন বলেছেন ‘barbarism and religion’. ধর্ম যখন স্বৈরাচারীর ভূমিকায়, তখন স্বৈরাচারবিরোধী বিপ্লব যে ধর্মবিরোধিতার রূপ নেবে তা সহজেই বোধগম্য।
.
আর এ কারণেই ইউরোপের সংস্কারবাদী আন্দোলন তথা রেনেসাঁ বা এনলাইটেনমেন্টের রূঢ় এবং গূঢ় প্রতিপাদ্য ছিল ধর্মের শেকল থেকে মানুষকে মুক্ত করা। আন্দালুস পর্যন্ত ইসলামের বাতি পৌঁছালেও তা বাকি ইউরোপ আলোকিত করতে পারেনি। আব্দুর রহমান আল গাফেকি’র (রহঃ) পর ইউরোপের মূল ভূমি তথা ফ্রান্স, জার্মানি বা ব্রিটেন পদানত করতে কোনো মুসলিম বাহিনী অগ্রসর হয়নি।
.
এছাড়া পরবর্তীতে আন্দালুসের ব্যর্থতা ধর্মবিরোধী রেনেসাঁর জন্যে হয়েছে শাপেবর। অন্ধকার ইউরোপে তাই রেনেসাঁই একচ্ছত্র আলোর মশাল বা মুক্তির দিশা হয়ে উঠলো, যা চূড়ান্ত বিজয় লাভ করেছিলো ফরাসী বিপ্লবের মধ্য দিয়ে। রেনেসাঁ ইউরোপকে উপহার দিলো সম্পূর্ণ ধর্মমুক্ত এক জীবনব্যবস্থা – যার নাম সেক্যুলারিজম।
.
রাজনীতি, অর্থনীতি, বিচার ব্যবস্থা, শিক্ষা-সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান সব ক্ষেত্রেই পুরোপুরি ধর্ম বা স্রষ্টার প্রভাবমুক্ত মানুষের তৈরি বস্তুবাদী মতবাদ প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে সেক্যুলার প্রগতি। জাতিসংঘ, গণতন্ত্র, সুদী ব্যাংকিং, পার্লামেন্টারি আইন বিধান, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা ইত্যাদি সবকিছুই এই প্রগতির অংশ। আর এই প্রগতির দৌড়ে পিছিয়ে থাকা আমাদের মতো দেশগুলোতে প্রগতিশীলতা মানেই ধর্মনিরপেক্ষতা, আদতে ধর্মবিরোধিতা – এই বাস্তবতা অন্তত বাংলাদেশিদের বুঝিয়ে বলতে হবে না।
.
এবারে চলুন শুরুতে বলা সেই শার্টের গল্পে ফিরে যাই। সিন্দুকের ভেতরে শার্ট থেকে প্রাকৃতিক বিবর্তনে ব্লেজার তৈরি হওয়ার তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠা করতে আমি পরিকল্পিতভাবে বায়াসড গণভোটের প্রস্তাব করেছিলাম। মানুষের বুদ্ধিমত্তার প্রতি সম্মান দেখিয়ে আসুন এটাকে বেশ অতিরঞ্জিত ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে ধরে নেই – আমরা তা নিতেই পারি।
.
কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, বাস্তবতা হচ্ছে অন্ধকার ইউরোপের প্রেক্ষাপটে রেনেসাঁর অন্যতম মাইলস্টোন ‘ডারউইনিয়ান বিবর্তনবাদ’কে প্রতিষ্ঠা পেতে এমন কোনো ষড়যন্ত্রের প্রয়োজন ছিলো না। ফরাসী বিপ্লবের আগে পরে ইউরোপীয় প্রগতিবাদীরা রাষ্ট্র, সমাজ এবং বিজ্ঞানের অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে মানবরচিত সেক্যুলার মতবাদগুলোকে প্রতিষ্ঠা কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলতে পারলেও একমাত্র পৃথিবীতে জীবনের আবির্ভাব এবং জীববৈচিত্র্য রয়ে গিয়েছিলো তাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে।
.
তাই চার্লস ডারউইন যখন তাঁর বিবর্তনবাদের প্রস্তাবনা নিয়ে হাজির হলেন, তখন বিদ্যুৎগতিতে এই আইডিয়া প্রসার লাভ করলো। কারণ প্রগতিশীল ইউরোপ আগে থেকেই এরকম একটি ধারণা বা তত্ত্বের জন্যে মুখিয়ে ছিলো যার মাধ্যমে স্রষ্টার নিয়ন্ত্রণকে বাদ দিয়ে জীব ও জীবনকে ব্যাখ্যা করা যাবে।
.
ফলে যা হবার তাই হলো। সমস্ত ক্রিটিসিজমকে পাশ কাটিয়ে, হাইপোথেসিসকে থিওরিতে পরিণত করতে বিজ্ঞানের চিরাচরিত মেথডলজি যেমন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ভেরিফিকেশন, এক্সপেরিমেন্টাল অবজারভেশন বা পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন ইত্যাদির তোয়াক্কা না করে, ডারউইনের হাইপোথেসিস স্বতঃসিদ্ধ থিওরিতে পরিণত হলো যা কোনো প্রমাণ ছাড়াই সকলকে মেনে নিতে হবে।
.
দেশীয় প্রগতিবাদীরা ফসিল রেকর্ডের টেপ রেকর্ডার বাজাতে পারেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে শার্ট থেকে ব্লেজার আসার জন্যে (শার্টটিকে রিপ্রোডিউসিং বায়োলজিকাল এন্টিটি ধরে নিয়ে) ন্যাচারাল সিলেকশনকে বিলিয়ন বছর কাজ করতে হলে এর বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে অসংখ্য ইন্টারমিডিয়েট নমুনা পাওয়া যেতো। এদের একটির পর একটিতে ক্রমিক পরিবর্তন দেখা যেতো, যেহেতু ‘survival of the fittest’ এর কন্টেক্সটে আমাদের গল্পে ব্লেজারটাই সারভাইভ করেছে আর বাকি সব ইন্টারমিডিয়েটস কম্পিটিশনে ফেইল করেছে।
.
কিন্তু ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হচ্ছে যেহেতু ফেইল্ড নমুনাগুলোর মাধ্যমেই ক্রমপরিবর্তনগুলো ট্রায়াল অ্যান্ড এররের মত করে ন্যাচারালি সিলেক্টেড হয়ে সফল এন্ড প্রোডাক্ট তৈরি করলো, তাই ফেইল্ড নমুনাগুলো হাজির করলেই পুরো প্রক্রিয়াটি প্রমাণ করা খুব সহজ। প্রাকৃতিক বিবর্তনের মাধ্যমে এভাবে একটি সফল স্পিসিস পর্যন্ত আসতে অসংখ্য ফেইল্ড ইন্টারমিডিয়েট থাকবে যারা বিবর্তনের ফলে ক্রমপরিবর্তনের সাক্ষী।
.
আর বর্তমানে পৃথিবীতে স্পিসিসের সংখ্যা অনুযায়ী তাহলে সমগ্র পৃথিবী ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ফেইল্ড ইন্টারমিডিয়েটস এর ফসিলে পূর্ণ থাকবে। কিন্তু জটিল ম্যামালস তো দূরে থাক, একটি সাধারণ উদ্ভিদ প্রজাতিরও বিবর্তনের সম্পূর্ণ ক্রম ফসিল রেকর্ড দিয়ে প্রমাণ করা যায় না। এজন্যে আমরা বিবর্তনবাদীদের কাছ থেকে ‘মিসিং লিংক’ কথাটা বার বার শুনি, আর এ-ও শুনি যে তর্ক না করে আমাদের কেন মিসিং লিংক খোঁজা উচিত ইত্যাদি।
.
আর আমাদের ফসিল রেকর্ডের ফসিলগুলোও কি বিবর্তন প্রক্রিয়ার ফেইল্ড বা ট্রান্সিয়েন্ট ইন্টারমিডিয়েট নাকি বর্তমানে এক্সটিংট কোনো স্বকীয় স্পিসিস, এর সুনির্দিষ্ট উত্তর প্রগতিশীল বিজ্ঞানীদের মধ্যেই নেই ।
.
বিবর্তনের পক্ষে সবচেয়ে জোরালো প্রমাণ হিসেবে যেটা বলা হয় বর্তমানে তা হচ্ছে ‘micro evolution’ যার উদাহরণ আমরা শার্টের গল্পেই দিয়েছি কিছুটা।
‘Micro evolution’ হচ্ছে পরিবেশের সাথে ইন্টারেকশনের ফলে জীবদেহে প্রতিনিয়ত ঘটতে থাকা ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া যার মাধ্যমে জীবদেহ পরিবেশের পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়। এর আরেক নাম অভিযোজন বা অ্যাডাপটেশন।
.
আমরা ল্যাবরেটরিতে ব্যাকটেরিয়া বা সেল কালচারে জিন এক্সপ্রেশনে যে পরিবর্তনগুলো দেখি, বা চারপাশের জীবজগতে যে পরিবর্তনগুলো দৃষ্টিগোচর হয় যেমন স্পিসিসের অভ্যন্তরীণ ভেরিয়েশন, বা অবজারভেবল মিউটেশন এবং মিউট্যান্ট – এ সবই ‘micro evolution’ এর প্রাক্টিকাল উদাহরণ। এগুলোকেই ‘macro evolution’ বা ডারউইনিয়ান বিবর্তনের শক্তিশালী দলিল হিসেবে দেখানো হয়।
.
কিন্তু এখানে বেশ বড় একটা ফারাক আছে যেটা ধামাচাপা দেওয়ার মতো করেই চাপা দেওয়া হয়। তা হলো, ‘micro evolution’ যে ‘macro evolution’ এর নিয়ামক এই ধারণাটাও একটা প্রমাণ-অযোগ্য থিওরি, আদতে হাইপোথেসিস এবং ‘macro evolution’ নিজেও একটা হাইপোথেটিকাল থিওরি। বিজ্ঞানের স্বতঃসিদ্ধ নিয়ম হচ্ছে থিওরিকে ভেরিফাই করা হবে এক্সপেরিমেন্ট বা অবজারভড ডাটা দিয়ে, একটি থিওরির ভেরিফিকেশন বা প্রুফ কখনই আরেকটি থিওরি হতে পারে না।
.
শার্টের ওপরে ঘটে যাওয়া ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া অবজারভেবল এবং প্রাক্টিকাল। শার্টের রং চেঞ্জ হতে পারে, বোতাম ছুটে যেতে পারে, কাপড় ছিঁড়তে পারে, দাগ লাগতে পারে, কিন্তু শার্টের এই পরিবর্তনগুলোই সম্মিলিতভাবে শার্টকে পাঞ্জাবী বা ব্লেজারে পরিণত করবে এ কথা অগ্রহণযোগ্য। নিও-ডারউইনিজমে এই ফারাকটাকেই ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ-পরিস্থিতির প্রভাবে শার্টের ওপরে ঘটা ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া হচ্ছে ‘micro evolution’ এর উদাহরণ আর এখানে শার্টের চেঞ্জগুলো গ্রাজুয়াল সিলেকশনের ফলে ব্লেজারের উদ্ভব হওয়ার প্রাকৃতিক ব্যাখ্যা হচ্ছে ‘macro evolution’।
.
প্রথমটি বাস্তব, কিন্তু পরেরটি ফিকশন। কারণ প্রথমটিকে পরেরটির চলমান প্রক্রিয়া বলার জন্যে আমাকে প্রমাণ হাজির করতে হবে যে আসলেই এমনটি হতে পারে, আর এখানেই বিবর্তনবাদীরা প্রমাণনির্ভর বিজ্ঞানকে ছেড়ে হয়ে উঠেছে গায়েবে বিশ্বাসী। মানে যদিও প্রমাণ নেই, তবুও ব্যাপারটা এটাই।
.
প্রখ্যাত বিবর্তনবাদী জর্জ ওয়াল্ড এক্ষেত্রে সময়কেই দিয়ে দিলেন নিয়ন্ত্রকের আসন, “সময়ই হচ্ছে মূলত এই ষড়যন্ত্রের নায়ক। যে সময়কাল নিয়ে আমরা এখানে কথা বলছি তার অনুক্রম হচ্ছে দুই বিলিয়ন বছর। আমরা মানবীয় অভিজ্ঞতায় যা অসম্ভব মনে করি, তা এখানে অর্থহীন। এই দীর্ঘ সময়ের সাপেক্ষে অসম্ভব হয়ে যায় সম্ভব, সম্ভব হয়ে যায় ঘটনীয়, আর ঘটনীয় হয়ে যায় বস্তুত সুনিশ্চিত। শুধু অপেক্ষা করতে হবে, সময় নিজেই অলৌকিকের জন্ম দেবে।”[১]
.
জর্জ ওয়াল্ড নিজেও বিবর্তনবাদের প্রমাণ-অযোগ্যতার সাক্ষ্য দিচ্ছেন এবং মানবীয় অভিজ্ঞতাকে জমা দিতে বলছেন অদেখা অলৌকিকতার ব্যাংকে। কিন্তু অলৌকিক তো বিজ্ঞান নয়, বিজ্ঞান তার নিজের ডেফিনেশনেই লৌকিক মানবীয় অভিজ্ঞতার সীমায় আবদ্ধ।
.
নিওডারউইনিস্টদের অন্যতম পুরোধা এবং DNA অণুর গঠনের আবিষ্কারকদের একজন ফ্রান্সিস ক্রিক বলেন, “জীববিজ্ঞানীদেরকে অবশ্যই প্রতিনিয়ত মনে রাখতে হবে তারা যা কিছু দেখছে তা ডিজাইন নয়, বরং বিবর্তনের ফল।”[২]
.
ডারউইনিয়ান বিবর্তনের ইন্ডিপেন্ডেন্টলি ভেরিফায়েবল কোনো প্রমাণ হাজির করা সম্ভব নয় এ কথা সবাই জানে এবং ওয়াল্ড, ক্রিকরা আমাদের চেয়েও ভালোভাবে জানে। আর এজন্যেই বিবর্তনবাদকে নিরীক্ষা না করেই জাস্ট মেনে নিতে হবে, এবং জীববিজ্ঞানীদেরকে ক্রিক তা-ই করতে বলছেন।
.
বিজ্ঞানের নিয়ম হচ্ছে নিরপেক্ষ নিরীক্ষণ, পরীক্ষণ, পর্যবেক্ষণে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই এবং ভেরিফিকেশনের আগে কোনো হাইপোথেসিসকে গ্রহণ-বর্জন করা যাবে না। হাইপোথেসিস উপস্থাপনের স্বাধীনতা বিজ্ঞানের বৈশিষ্ট্য আর বৈজ্ঞানিক মেথডলজির নিরপেক্ষ প্রয়োগ হচ্ছে বিজ্ঞানের প্রাণ। তা নাহলে বিজ্ঞান মরে গিয়ে অপবিজ্ঞান বা গোঁড়ামি ও কুসংস্কারের দরজা খুলে যায়।
.
আর বিজ্ঞানের দর্পণ হচ্ছে – একটি গবেষণার ফলাফলকে অন্য গবেষণা প্রতিনিয়ত আক্রমণ করবে, পুরনো ধারণাকে নতুন তথ্য এসে বাতিল করে দেবে, এককালের বিজ্ঞানীদের কনসেন্সাস পরবর্তীকালের নতুন পর্যবেক্ষণের সামনে থমকে দাঁড়িয়ে ইতিহাস হয়ে যাবে।
এ কারণেই টলেমির সৌর মডেল, চিরস্থায়ী মহাবিশ্ব, ফ্লজিস্টন থিওরি ইত্যাদি এখন অতীত আর এভাবেই বর্তমানের ধারণাগুলোকেও বিজ্ঞান কখনো নিশ্চিত সত্যের সার্টিফিকেট দেয় না।
এটাই বিজ্ঞানের সৌন্দর্য এবং এভাবেই বিজ্ঞান স্বকীয় গতিতে এগিয়ে চলে সভ্যতার জন্যে সত্যের খোঁজে এবং উন্নতির পথে।
.
কিন্তু তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই তত্ত্বকে গ্রহণ কিংবা তথ্য-প্রমাণ অগ্রাহ্য করে তত্ত্বকে বর্জনের মানসিকতা এই স্বকীয় প্রবাহে বাঁধ তৈরি করে, যেটাকে এক কথায় গোঁড়ামি বলা যায়। বিবর্তনবাদী প্রগতিশীলরা চায় আমরা প্রশ্ন না করে, প্রমাণ না চেয়ে, তথ্যকে যাচাই না করে মেনে নেবো জীবজগত বিবর্তনের ফল।
.
তাদের মধ্যে যারা গোঁড়া, তারা এর বিপরীত মন্তব্যকারীদেরকেই গোঁড়া বলবে। এই গোঁড়াদের সংখ্যাই বেশি যারা ডারউইনিজমকে বিজ্ঞান নয়, বিশ্বাস হিসেবে গ্রহণ করেছে। আর তাদের মধ্যে যারা কিছুটা মুক্তমনা তারা বলে, “আসলে আমাদের কাছে জীবনের ভৌত ব্যাখ্যার জন্যে ডারউইনিজমের কোনো বিকল্প নেই।” ডারউইনিজমকে এরা ঠিক বিশ্বাস নয়, বরং জীববিজ্ঞানের গাইডিং প্রিন্সিপাল মনে করে।
কিন্তু কেন ?
.
প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমাদেরকে আবারো ক্যাথলিক ধর্মের যাঁতাকলে পিষ্ট ইউরোপের সেই করুণ ইতিহাস স্মরণ করতে হবে। স্মরণ করতে হবে স্বৈরাচারী চার্চের বিরূদ্ধে ধর্মবিরোধী বিপ্লব রেনেসাঁর কথা, ফরাসী বিপ্লব এবং সেক্যুলার সভ্যতার জন্মের কথা – যেখানে স্রষ্টার নিয়ন্ত্রণমুক্ত ভৌত বস্তুবাদের মশালে খোঁজা হয়েছে আলোর দিশা। এই আলোই(!) ইউরোপকে আপাত মুক্তি এবং প্রগতি এনে দিয়েছে, তাই এই আলো দিয়েই বিশ্বকে দেখতে হবে। এই আলোর বাইরে যা কিছু আছে সবই অন্ধকার। তাই এই আলোতেই খুঁজতে হবে সব ব্যাখ্যা, সব প্রশ্নের উত্তর।
.
তাই জীবনের জন্যে বিবর্তনবাদই একমাত্র ব্যাখ্যা। এর পক্ষে যত দুর্বল যুক্তি, অযুক্তি, প্রমাণহীনতা বা প্রমাণঅযোগ্যতা, ক্রিটিসিজম কিংবা বিপক্ষে তথ্য-প্রমাণ থাকুক না কেন – সবকিছুর ওপরে বিবর্তনের র‍্যাশনালকেই জাস্টিফাই করতে হবে যদিও তাতে মানবীয় কমনসেন্সকে উপেক্ষা করা হয়। সময়ের দোহাই দিয়ে ওয়াল্ডরা আমাদেরকে তাই করতে বলছেন। ক্রিকরা শিখিয়ে দিচ্ছেন যে, বিজ্ঞানের নিরপেক্ষ নজরকে পাশ কাটিয়ে আগে থেকেই বায়াসড দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ল্যাবরেটরিতে যেতে হবে।
.
কিন্তু এই পরিস্থিতিতে আমাদের মুসলিমদের কী করা উচিত? চার্চের ফান্ডিং-এ ডারউইনিজমের বিপক্ষে বিভিন্ন যুক্তিতর্ক তুলে ধরে ব্লগ, কলাম, বই ছাপানোর পাশাপাশি আবার জেনেসিসের বিবর্তনবাদী ব্যাখ্যা প্রচার প্রসারের জন্যে খোদ পোপের মুখে বিবর্তনবাদকে সত্যায়ন করিয়ে চার্চের টিকে থাকার দ্বৈরথ – আমাদের মুসলিমদের জন্যে অনুকরণীয় হতে পারে না।
.
আমাদের মনে রাখতে হবে বিবর্তনবাদের ঝড়ে চার্চের মত করে ইসলাম এবং আমরা অস্তিত্বের সংকটে পড়ে যাইনি। আমাদের ইতিহাস ভিন্ন, আমাদের সভ্যতা ভিন্ন। আমাদের সভ্যতায় ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের রেষারেষি নয়, বরং দেহমনের সম্পর্ক। একারণেই দুনিয়াতে যখন রাষ্ট্র থেকে পরিবার পর্যন্ত, মসজিদ থেকে বাজার পর্যন্ত, স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ইসলাম প্রতিষ্ঠিত ছিলো, তখন আমরা জ্ঞান-বিজ্ঞানেও শ্রেষ্ঠ ছিলাম।
.
তাই প্রথমত, আমাদেরকে নিজেদের ইতিহাস জেনে হীনমন্যতা ত্যাগ করতে হবে। দু-একটা জার্নাল পেপার পাবলিশ করার জন্যে প্রফেসরের সাথে তাল মিলিয়ে ম্যানুস্ক্রিপ্টে ঠিকই বিবর্তনের কাসুন্দী ঘাঁটবো, আর মসজিদে গিয়ে তাওহীদী হবো – এই মানসিকতা পরিহার করতে হবে।
.
আপনি আলাদা সভ্যতা, আলাদা ঐতিহ্য থেকে এসেছেন সেটা প্রফেসরের সাথে শেয়ার করুন না! জার্নাল পেপারে আপনাকে সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ লিখতে হবে এমন না, কিন্তু আপনি বিবর্তনবাদকে বৈজ্ঞানিক মনে করেন না। যুক্তি ও প্রশ্নের তীরের ফলা ধার দিন এবং প্রফেসরের কাছ থেকে নিরপেক্ষতা আদায় করে নিন, তা না হলে তাওহীদ কম্প্রোমাইজ করতে হয় এমন পেপারে নিজের অথরশিপ উইথড্র করুন।
.
আল্লাহ খালিক্ব আর আমরা মাখলুক্ব। আল্লাহ জানা আজানা সব প্রাণ তৈরি করেছেন জোড়ায় জোড়ায় এবং তাদেরকে জীবনধারণ, আহার, বিহার, বংশবৃদ্ধির জন্যে  সঠিক পথ দেখিয়েছেন। কোনো গর্ভ নিষিক্ত হয় না আল্লাহর হুকুম ছাড়া, কোনো গাছের পাতা পড়ে না আল্লাহর হুকুম ছাড়া। জমিনের অন্ধকারে ব্যাকটেরিয়া থেকে বাতাসে ফুলের রেণু – কোনো কিছুর গতিপ্রকৃতি আল্লাহর জ্ঞানের বাইরে নয়। প্রত্যেক জীবিত প্রাণের রিযিক আল্লাহই তার কাছে পৌছে দেন, জীবন-মৃত্যুর মালিকও আল্লাহ, স্পিসিসের এক্সটিংশন কিংবা নতুন স্পিসিসের উদ্ভব আল্লাহর ইচ্ছা এবং হুকুমেই হয়।
.
এভাবে আপনি  জীববিজ্ঞানের তাওহীদকে জেনে নিন। যদি শিক্ষক হন, পাঠ্যপুস্তকে যা-ই থাকুক ছাত্রদেরকে আমাদের সভ্যতা, আমাদের বিজ্ঞান, আমাদের ঐতিহ্যের সবক দিয়ে পাঠ্যপুস্তককে আমাদের মতো করে, মানে ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যাখ্যা করুন।
.
আদি কোষকে প্রকৃত কোষের এন্সেসটর না বলে বরং মাইক্রোস্কোপের নিচে দেখে কোষকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় এবং পর্যবেক্ষণে তাদের কী কী তফাৎ ধরা পড়ে তার লিস্ট দিয়ে ছাত্রদের নিজেদেরকেই স্যাম্পল থেকে দুই শ্রেণীর কোষকে আলাদা করতে বলুন। ছাত্রদেরকে বাস্তব বিজ্ঞান পড়ান যেটা আমরা চোখে দেখি। মিলিয়ন বছর পূর্বে আদি কোষ বিবর্তিত হয়ে প্রকৃত কোষ তৈরি হওয়ার অবৈজ্ঞানিক ফিকশনকে খণ্ডন করার তথ্য-যুক্তি-প্রমাণ ছাত্রদের সামনে তুলে ধরুন।
.
আপনি বাবা হলে সন্তানকে প্রয়োজনে বায়োলজি টিচারের সাথে কন্সট্রাক্টিভ এবং লজিকাল আর্গুমেন্টে যাওয়ার রসদ সরবরাহ করুন।
.
এবং দ্বিতীয়ত, আন্দালুসে যে আলো নিভে গিয়েছিলো সেই ইসলাম এবং কোরআনের মশালবাহী আলোর দিশারী হয়ে উঠি আমরা। কারণ অন্ধকার ইউরোপের গর্ত থেকে শুধু বিবর্তনবাদই উঠে আসেনি, এমন আরো অনেক কিছুই উঠে এসেছে  যা আপনার আমার চারপাশে সেক্যুলারিজমের নামে তাওহীদকে ভুলুণ্ঠিত করছে। এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ইস্যু নয়। সূর্যের খোঁজ না পেলে মানুষ আলেয়াকেই আলো ভাববে।
.
কিন্তু আমরা সূর্যের দেশের বাসিন্দারাই আজ আলেয়ার পেছনে ছুটছি। সেক্যুলার ইউরোপীয় বিজ্ঞান আমরা পাতার পর পাতা মুখস্ত করছি, কিন্তু জানতে চাইনি যে রজার বেকনের দু’শ বছর আগেই প্রথম ফর্মাল বিজ্ঞানী ইবন আল হাইসাম আধুনিক বিজ্ঞানের মেথডলজি আবিষ্কার করে তার ব্যবহারিক প্রয়োগ করে গিয়েছেন। আল হাইসাম বিজ্ঞানকে দেখেছেন সত্যকে জানা এবং এর ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার ব্যাপারে মানবীয় এক পরশ পাথর হিসেবে।
.
তিনি বলেছেন, “সত্যের স্বার্থেই সত্যের অন্বেষণ করতে হবে … সত্যকে খুঁজে পাওয়া কঠিন এবং এর রাস্তা অমসৃণ কেননা সত্য নিমজ্জিত থাকে অস্পষ্টতার মধ্যে … কিন্তু আল্লাহ বিজ্ঞানীদেরকে ভুল থেকে নিরাপদ করেননি এবং বিজ্ঞানকে ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করেননি। যদি এমনটাই হতো, তাহলে বিজ্ঞানীরা বিজ্ঞানের কোনো ক্ষেত্রেই দ্বিমত করতেন না।
.
এজন্যে সত্যের অন্বেষণকারী সে নয় যে পূর্ববর্তীদের লেখাগুলো পড়ে এবং স্বভাবসুলভ প্রবণতায় সেগুলোকে আস্থার সাথে গ্রহণ করে নেয়; বরং সে-ই, যে সেগুলোর প্রতি নিজের বিশ্বস্ততাকে সন্দেহ করে এবং লব্ধ জ্ঞানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, যে যুক্তি ও প্রমাণের কাছেই হার মানে, ভুলত্রুটি আর খুঁতে ভরা স্বভাবের মানুষের দেওয়া বাণীর কাছে নয়।
.
তাই যে ব্যক্তি বিজ্ঞানীদের লেখা যাচাই করে, যদি সত্যকে জানা তার উদ্দেশ্য হয় তাহলে তার দায়িত্ব হচ্ছে সে যা কিছু পড়ছে নিজেকে তার শত্রু বানিয়ে নেওয়া, বিষয়বস্তুর মূল এবং সীমায় নিজের বুদ্ধিমত্তাকে প্রয়োগ করে সবদিক থেকে একে আক্রমণ করা। এছাড়াও এই প্রক্রিয়ায় সমালোচনামূলক নিরীক্ষণের সময় সে নিজেকেও সন্দেহের জায়গায় রেখে সতর্ক থাকবে যাতে গোঁড়ামি বা পক্ষপাতদুষ্টতা থেকে বেঁচে থাকা যায়।”[৩, ৪]
.
অথচ ক্রিকদের বিবর্তনবাদে আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে মাইক্রোস্কোপে চোখ রাখতে হবে। যা দেখা যাবে সেটা বিবর্তনের ফল, ভিন্ন চিন্তার জায়গা নেই এখানে। আল হাইসামের বিজ্ঞানের সাথে বিবর্তনবাদের কত পার্থক্য! আল হাইসাম বিজ্ঞানকে দেখেছেন আল্লাহর বন্ধুত্ব অর্জনের উপায় হিসেবে।
.
তিনি বলেছেন, “আমি প্রতিনিয়ত জ্ঞান ও সত্যকে খুঁজি, এবং আমি বিশ্বাস করি আল্লাহর নূরে আলোকিত হতে ও তাঁর নৈকট্য লাভে, সত্য ও জ্ঞান অন্বেষণের থেকে আর কোনো উত্তম পন্থা নেই।”[৫]
.
রেনেসাঁর বিজ্ঞানের দর্শন ঠিক এর উল্টো – সত্য ও জ্ঞানকে ভুলত্রুটি আর খুঁতে ভরা স্বভাবের মানুষের চিন্তার গণ্ডিতে বেধে Essentialy Almighty Allahless সভ্যতা গড়ে তোলা। আমাদের বিজ্ঞানের দর্শন আর রেনেসাঁর বিজ্ঞানের দর্শন ভিন্ন এবং বিপরীত। ওয়াহী(আল্লাহর বাণী) এবং বিজ্ঞান – জ্ঞানের শ্রেণীবিভাগে ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরি, একটি ডিভাইন প্রেসক্রিপশন এবং অপরটি মানবীয় প্রচেষ্টা।
.
এজন্যে ইঞ্চির স্কেলে যেমন ভর মাপা অর্থহীন, তেমনি ওয়াহীকে আমরা বিজ্ঞান দিয়ে বিচার করি না বরং ওয়াহী বিজ্ঞানকে আলো দেখায়। কারণ ওয়াহী বা আল্লাহর বাণী হচ্ছে সুনিশ্চিত জ্ঞান আর বিজ্ঞান হচ্ছে ইনহেরেন্টলি অনিশ্চয়তায় ভরা। বিজ্ঞান চোখ হলে ওয়াহী হচ্ছে আলো। আর আলোর অনুপস্থিতিতে চোখের দৃষ্টি পথভ্রষ্ট হবে।
.
এজন্যে রেনেসাঁকে পথভ্রষ্ট বললে সাথে সাথে চার্চের ওয়াহীও স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। কারণ চার্চের ওয়াহী আলোর বদলে অন্ধকারের নর্দমা তৈরি করেছিলো যেখানে রেনেসাঁর আলেয়া পথের দিশারী হয়ে উঠেছে। সেখানে বিবর্তনবাদের মতো মতবাদগুলোর আদতে কোনো বিকল্প নেই।
.
কিন্তু ওয়াহীর সাথে বিজ্ঞানের সম্পর্ক আসলে অনেক গভীর। ওয়াহীর দাবিদার সব এন্টিটিগুলোর মধ্যে যাচাই, বাছাই, বিচার, বিশ্লেষণ এবং সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে বিশুদ্ধ বিজ্ঞানের প্রয়োজন যেমন আছে, তেমনি বিজ্ঞানকে অস্পষ্ট-অস্বচ্ছ পথে চলে সত্য ও জ্ঞানের মঞ্জিলে পৌঁছাতে সত্য ওয়াহীর কাছ থেকেই আলো ধার করতে হবে।
.
উদাহরণস্বরূপ, কোরআন আসলেই অবিকৃত কিনা এবং একই প্রশ্নে বাইবেলের স্ট্যাটাস কী – তা জানতে চাইলে নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক গবেষণার দ্বারস্থ হতে হবে। আবার ওয়াহীর আলো না থাকলে অস্পষ্টতায় পথ হারিয়ে বিজ্ঞান নিজেই কুসংস্কার ও গোঁড়ামিতে আক্রান্ত হবে।
.
‘কয়েক বিলিয়ন বছর আগে প্রথম জীবকোষের উদ্ভব বা অমুক তমুক তমুকের কমন এনসেস্টর’ এ ধরণের অলৌকিক প্রমাণ-অযোগ্য মনুষ্যবাণীও মূলধারার বিজ্ঞান বলে বিবেচিত হবে।
সত্য ধর্ম আর বিশুদ্ধ বিজ্ঞান, এর যে কোনো একটির অনুপস্থিতিতেই ধর্ম ও বিজ্ঞানের সংঘর্ষ অনিবার্য।
.
কিন্তু আমাদের সভ্যতার ইতিহাস ও উদাহরণ এমন নয়। বরং এখানে ধর্মের শৌর্যেই বিজ্ঞান বিকশিত হয়েছে। টুথব্রাশ থেকে হাসপাতাল, কফি থেকে জিপিএস, রোবোটিক্স থেকে এলগোরিদমিক্স, সার্জারি থেকে অপটিক্স, এলজেবরা থেকে ক্যামেরা, এক কথায় আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সলিড প্লাটফর্ম এবং দিকনির্দেশনা ইসলামী সভ্যতারই অবদান।
.
কিন্তু যখন আমরা ধর্মের শৌর্য হারিয়েছি, তখন বিজ্ঞানও আমাদের হাতছাড়া হয়েছে। তাই ধর্ম-বিজ্ঞানের সংঘাত নয় বরং তাওহীদী বনাম সেক্যুলার সভ্যতার সম্যক সংঘাতের এই যুগে আমাদেরকে সভ্যতার সৈনিক হতে হবে, হতে হবে তাওহীদের পতাকাবাহক।
.
আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে সৃষ্টির দাসত্ব থেকে মুক্ত করা আর সেক্যুলারিজম চায় সামগ্রিকভাবে সৃষ্টির দাসত্ব প্রতিষ্ঠা করতে। সভ্যতার এই দ্বন্দ্বে বিবর্তনবাদ ছোট একটি ডট মাত্র, তাওহীদের সূর্যের কাছে রেনেসাঁর আলেয়া যেমন অসহায়, তেমনি দুর্বল। সমুদ্র নিয়ে যার চিন্তা, তাকে কীভাবে এক ফোঁটা জল ধাঁধায় ফেলবে! সত্য সমাগত হলে মিথ্যা পর্যবসিত হবেই।
.
তাই সামগ্রিক ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুক্ত হয়ে যান। জীববিজ্ঞানও এই সমগ্রতার বাইরে নয়। তাই আপনি জীববিজ্ঞানী হলে আপনার ময়দানে তাওহীদ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আপনাকেই নেতৃত্ব দিতে হবে, মাথা উঁচু করে তাওহীদের স্লোগান তুলুন। নিজেই দেখবেন বিবর্তনবাদীরা কতটা দুর্বল!
.
মানুষের বিজ্ঞানকে বিবর্তনবাদ তথা বৃহত্তর সেক্যুলারিজমের গোঁড়ামি থেকে মুক্ত করে তার নিজস্ব স্বকীয়তা ফিরিয়ে দেওয়াই হচ্ছে আমাদের কাছে বিজ্ঞানের দাবি। আর এই দাবি পূরণের জন্যে আগে নিজেকে গোঁড়ামিমুক্ত হতে হবে। আসুন শুরু করি … !!!
.
গ্রন্থসূত্র ও তথ্যাবলী:
[১] Wald, George. 1955. The Physics and Chemistry of Life, p. 12. Chicago, Illinois: Simon and Schuster.
[২] Crick F 1988 What Mad Pursuit: a Personal View of Scientific Discovery (New York: Basic Books)
[৩] Sabra, A. I. Ibn al-Haytham. Harvard Magazine (2003).  Available at:http://harvardmagazine.com/2003/09/ibn-al-haytham-html
[৪] Ibn Al Haytham, Doubts Concerning Ptolemy, Translated by S. Pines, as quoted in Sambursky 1974, p. 139.
[৫] Plott, C. (2000), Global History of Philosophy: The Period of Scholasticism, Motilal Banarsidass, ISBN 8120805518, Pt. II, p. 465.
.

#বিবর্তনবাদ #সভ্যতা #দ্বন্দ্ব #গোঁড়ামি #সেক্যুলারিজম #তাওহীদ #বিজ্ঞান #ধর্ম #সংঘর্ষ #ইতিহাস #মধ্যযুগ #ইউরোপ #বিজ্ঞানচর্চা #রেনেসাঁ #ডারউইন #প্রগতিবাদী #ফসিল #micro_evolution #macro_evolution #ফিকশন #ডারউইনিস্ট #ডারউইনিয়ান #ইসলাম #কোরআন #মুসলমান #মুসলিম #Islam #Quran #Human #almighty #Allah

Saturday, 5 October 2019

ওযূ করার সঠিক পদ্ধতি, সহি নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।


اعوذ بالله من الشيطان الرجيم
বিষয়: ওযূ করার সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বহুল আলোচনা।

১.নামাযী প্রথমে মনে মনে ওযুর নিয়ত করবে। কারণ নিয়ত ছাড়া কোন কর্মই শুদ্ধ হয় না। (বুখারী, মুসলিম,  মিশকাত ১নং)।

২.‘বিসমিল্লাহ্‌’ বলে ওযু শুরু করবে। কারণ শুরুতে তা না বললে ওযু হয় না।
(আবূদাঊদ, সুনান ৯২নং)।

৩.তিনবার দুইহাত কব্জি পর্যন্ত ধুয়ে নেবে।হাতে ঘড়ি, চুড়ি, আংটি প্রভৃতি থাকলে তা হিলিয়ে তার তলে পানি পৌঁছাবে। আঙ্গুল দিয়ে আঙ্গুলের ফাঁকগুলো খেলাল করবে।
(আবূদাঊদ, সুনান, তিরমিযী, সুনান, ইবনে মাজাহ্‌, সুনান, মিশকাত ৪০৭নং)।

এরপর ;
পানির পাত্রে হাত ডুবিয়ে পানি নিতে পারে।
(বুখারী, মুসলিম, সহীহ ৩৯৪নং)।

প্রকাশ যে,
নখে নখ পালিশ বা কোন প্রকার পুরু পেন্ট থাকলে তা তুলে না ফেলা পর্যন্ত ওযু হবে না। পক্ষান্তরে মেহেদী বা আলতা লেগে থাকা অবস্থায় ওযু-গোসল হয়ে যাবে।

৪.তারপর ডানহাতে পানি নিয়ে ৩ বার কুল্লি করবে।

৫.অতঃপর পানি নিয়ে নাকের গোড়ায় লাগিয়ে টেনে নিয়ে বামহাত দ্বারা নাক ঝাড়বে। এরুপ ৩ বার করবে। তবে রোযা অবস্থায় থাকলে সাবধানে নাকে পানি টানবে, যাতে গলার নিচে পানি না চলে যায়।
(তিরমিযী, সুনান, নাসাঈ, সুনান ৮৯,
মিশকাত ৪০৫, ৪১০নং)।

অবশ্য এক লোট পানিতেই একই সাথে অর্ধেক দিয়ে কুল্লি করে বাকি অর্ধেক দিয়ে নাক ঝাড়লেও চলে।
(বুখারী, মুসলিম,  মিশকাত ৩৯৪নং)।

৬.অতঃপর মুখমন্ডল (এক কান থেকে অপর কানের মধ্যবর্তী এবং কপালের চুলের গোড়া থেকে দাড়ির নিচের অংশ পর্যন্ত অঙ্গ) ৩ বার পানি লাগিয়ে দুইহাত দ্বারা ধৌত করবে। (বুখারী ১৪০নং) এক লোট পানি দাড়ির মাঝে দিয়ে দাড়ির ফাঁকে ফাঁকে আঙ্গুল চালিয়ে তা খেলাল করবে। 
(আবূদাঊদ, সুনান, মিশকাত ৪০৮নং)।

 মহিলাদের কপালে টিপ থাকলে ছাড়িয়ে ফেলে (কপাল) ধুতে হবে। নচেৎ ওযু হবে না।

৭.অতঃপর প্রথমে ডানহাত আঙ্গুলের ডগা থেকে কনুই পর্যন্ত এবং তদনুরুপ বামহাত ৩ বার (প্রত্যেক বারে পুরোহাতে পানি ফিরিয়ে রগড়ে) ধৌত করবে।

৮.অতঃপর একবার মাথা মাসাহ্‌ করবে; নতুন পানি দ্বারা দুই হাতকে ভিজিয়ে আঙ্গুল গুলিকে মুখোমুখি করে মাথার সামনের দিক (যেখান থেকে চুল গজানো শুরু হয়েছে সেখান) থেকে পিছন দিক (গর্দানের যেখানে চুল শেষ হয়েছে সেখান) পর্যন্ত স্পর্শ করে পুনরায় সামনের দিকে নিয়ে এসে শুরুর জায়গা পর্যন্ত পূর্ণ মাথা মাসাহ্‌ করবে।
(বুখারী, মুসলিম,  মিশকাত ৩৯৪নং)।

মাথায় পাগড়ি থাকলে তার উপরেও মাসাহ্‌ করবে।
(মুসলিম,  মিশকাত ৩৯৯নং)।

৯.অতঃপর আর নতুন পানি না নিয়ে ঐ হাতেই দুই কান মাসাহ্‌ করবে; শাহাদতের (তর্জনী) দুই আঙ্গুল দ্বারা দুই কানের ভিতর দিক এবং দুই বুড়ো আঙ্গুল দ্বারা দুই কানের পিঠ ও বাহির দিক মাসাহ্‌ করবে।
(আবূদাঊদ, সুনান ৯৯, ১২৫নং)।

প্রকাশ যে,
গর্দান মাসাহ্‌ করা বিধেয় নয় বরং এটা বিদআত।

১০.অতঃপর প্রথমে ডান পা ও পরে বাম পা গাঁট পর্যন্ত ৩ বার করে রগড়ে ধোবে। কড়ে আঙ্গুল দ্বারা পায়ের আঙ্গুলের ফাঁকগুলো খেলাল করে রগড়ে ধৌত করবে।
(আবূদাঊদ, সুনান, তিরমিযী, সুনান,
ইবনে মাজাহ্‌, সুনান, মিশকাত ৪০৭নং)।

✓  প্রিয়নবী (সাঃ) বলেন,
“পূর্ণাঙ্গরুপে ওযু কর, আঙ্গুলের ফাঁকগুলো খেলাল কর আর রোযা না থাকলে নাকে খুব ভালরুপে পানি চড়াও।(তারপর তা ঝেড়ে ফেলে উত্তমরুপে নাক সাফ কর।)
(আবূদাঊদ, সুনান, তিরমিযী, সুনান, নাসাঈ, সুনান, ইবনে মাজাহ্‌, সুনান, দারেমী,
সুনান, মিশকাত ৪০৫-৪০৬ নং)।

১১.এরপর হাতে পানি নিয়ে কাপড়ের উপর থেকে শরমগাহে ছিটিয়ে দেবে। বিশেষ করে পেশাব করার পর ওযু করলে এই আমল অধিকরুপে ব্যবহার্য। যেহেতু পেশাব করে তাহারতের পর দু-এক কাতরা পেশাব বের হওয়ার অসঅসা থাকে। সুতরাং পানি ছিটিয়ে দিলে ঐ অসঅসা দূর হয়ে যায়।
(আবূদাঊদ, সুনান ১৫২-১৫৪,
ইবনে মাজাহ্‌, সুনান ৩৭৪-৩৭৬নং)।

এই আমল খোদ জিবরাঈল (আঃ) মহানবী (সাঃ) কে শিক্ষা দিয়েছেন।
(ইবনে মাজাহ্‌, সুনান, দারেমী, সুনান,হাকেম, মুস্তাদরাক, বায়হাকী, আহমাদ, মুসনাদ, সিলসিলাহ সহীহাহ, আলবানী ৮৪১নং)।

ওযুর আনুষঙ্গিক মাসায়েল :

✓ওযুর অঙ্গগুলোকে কমপক্ষে ১ বার করে ধোয়া জরুরী। ২ বার করে ধুলেও চলে। তবে ৩ বার করে ধোয়াই উত্তম। এরই উপরে আল্লাহর রসূল (সাঃ) তথা সাহাবায়ে কেরামের আমল বেশী। কিন্তু তিনবারের অধিক ধোয়া অতিরঞ্জন, বাড়াবাড়ি ও সীমালংঘন করা।
(আবূদাঊদ, সুনান, নাসাঈ, সুনান,
ইবনে মাজাহ্‌, সুনান, মিশকাত ৪১৭-৪১৮ নং)।

✓ওযুর কোন অঙ্গ ২ বার এবং কোন অঙ্গ ৩ বার ধোয়া দূষণীয় নয়।
(সহীহ, আবূদাঊদ, সুনান ১০৯,
সহীহ, তিরমিযী, সুনান ৪৩নং)।

✓জোড়া অঙ্গগুলির ডান অঙ্গকে আগে ধোয়া রসূল (সাঃ) এর নির্দেশ।
(আহমাদ, মুসনাদ, আবূ দাঊদ, সুনান,
ইবনে মাজাহ্‌, সুনান, মিশকাত ৪০১নং)।

✓তিনি ওযু, গোসল, মাথা আঁচড়ানো, জুতো পরা প্রভৃতি সকল কাজের সময় ডান থেকে শুরু করা পছন্দ করতেন।
(বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ৪০০নং)।

✓ওযুর অঙ্গগুলো -বিশেষ করে হাত ও পা- রগড়ে ধোয়া উত্তম। রসূল (সাঃ) এর এরুপই আমল ছিল।
(নাসাঈ, সুনান ৭২, মিশকাত ৪০৭নং)।

অঙ্গসমূহ এমনভাবে ধুতে হবে যাতে কোন সামান্য জায়গাও শুকনো থেকে না যায়। ওযুর অঙ্গে কোন প্রকার পানিরোধক বস্তু (যেমন পেন্ট, চুন, কুমকুম, অলঙ্কার, ঘড়ি, টিপ ইত্যাদি) থাকলে তা অবশ্যই দূর করে নিতে হবে।

যেহেতু ;
✓ আল্লাহর নবী (সাঃ) একদা কতক লোকের শুষ্ক গোড়ালি দেখে বলেছিলেন, “গোড়ালিগুলোর জন্য দোযখে ধ্বংস ও সর্বনাশ রয়েছে! তোমরা ভালরুপে (সকল অঙ্গকে সম্পূর্ণরুপে) ধুয়ে ওযু কর।”
(মুসলিম, মিশকাত ৩৯৮নং)।

✓এক ব্যক্তি ওযু করার পর মহানবী (সাঃ) এর নিকট উপস্থিত হলে দেখলেন,তার দুই পায়ে নখ পরিমাণ জায়গা শুষ্ক রয়েছে।তিনি তাকে বললেন,
“তুমি ফিরে গিয়ে ভালরুপে ওযু করে এস।”
(আবূদাঊদ, সুনান ১৫৮নং)।

✓এক ব্যক্তিকে তিনি দেখলেন নামায পড়ছে, আর তার এক পায়ের পিঠে এক দিরহাম বরাবর স্থান শুষ্ক রয়েছে, যাতে সে পানিই পৌঁছায়নি।
তিনি তাকে পুনরায় ওযু করে নতুনভাবে নামায পড়তে আদেশ দিলেন।
(আবূদাঊদ, সুনান ১৬১ নং)।


ওযু করার সময় নিরবচ্ছিন্নভাবে একটানা অঙ্গগুলোকে পর্যায়ক্রমে একের পর এক ধুতে হবে। মাঝে বিরতি দেওয়া বৈধ নয়।
সুতরাং কেউ মাথা বা কান মাসাহ্‌ না করে ভুলে পা ধুয়ে ফেললে এবং সত্বর মনে পড়লে, সে মাসাহ্‌ করে পুনরায় পা ধোবে। বহু পরে মনে পড়লে পুনরায় নতুন করে ওযু করবে।

কেউ যদি ওযু শুরু করার পর কাপড়ে নাপাকী দেখে এবং তা সাফ করতে করতে পূর্বেকার ধৌত অঙ্গ শুকিয়ে যায়, তাহলে তাকে পুনঃ ওযু করতে হবে। পক্ষান্তরে যদি ওযু সম্পর্কিত কোন বিষয়ে ব্যস্ত হয়ে নিরবচ্ছিন্নতা কেটে যায়, তবে তাতে কোন ক্ষতি হয় না।

যেমন ;
√ওযু করতে করতে হাতে বা ওযুর কোন অঙ্গে পেন্ট বা নখ পালিশ বা চুন ছাড়াতে অথবা পানি শেষ হয়ে গেলে পুনরায় কুঁয়ো বা কল থেকে পানি তুলতে কিংবা ট্যাঙ্কের পাইপ খুলতে প্রভৃতি কারণে ওযুতে সামান্য বিরতি এসে পূর্বেকার ধোয়া অঙ্গ শুকিয়ে যায়, তাহলে পুনরায় নতুনভাবে শুরু করে ওযু করতে হবে না।

✓যে অঙ্গ ধোয়া হয়েছিল তার পর থেকেই বাকী অঙ্গসমূহ ধুয়ে ওযু শেষ করা যাবে।
(আলমুমতে’, শারহে ফিক্‌হ,
ইবনে উষাইমীন ১/১৫৭)।

ওযু করার সময় বাঁধানো দাঁত খোলা বা খেলাল করে দাঁতের ফাঁক থেকে লেগে থাকা খাদ্যাংশ বের করা জরুরী নয়।
(ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ১/২৮৩, ফম: ১/২১০)

একই পাত্র হতে স্বামী-স্ত্রী উভয়ে এক সাথে অথবা স্ত্রী আগে ও স্বামী পরে অথবা তার বিপরীতভাবে ওযু-গোসল করায় কোন ক্ষতি বা বাধা নেই। আল্লাহর রসূল (সাঃ) তথা সাহাবাগণ এরুপ আমল করেছেন।
(বুখারী, ফতহুল বারী ১/৩৫৭-৩৫৮,
মুসলিম, মিশকাত ৪৪০নং)।

ঠান্ডার কারণে গরম পানিতে ওযু-গোসল করায় কোন বাধা নেই।
হযরত উমার (রাঃ) এরুপ করতেন।
(বুখারী, ফাতহুল বারী,
ইবনে হাজার ১/৩৫৭-৩৫৮)।

 ওযু-গোসলের জন্য পরিমিত পানি ব্যবহার করা কর্তব্য। অধিক পানি খরচ করা অতিরঞ্জনের পর্যায়ভুক্ত; আর তা বৈধ নয়।
(আহমাদ, মুসনাদ আবূদাঊদ, সুনান,
ইবনে মাজাহ্‌, সুনান, মিশকাত ৪১৮নং)।

  মহানবী(সাঃ) ১ মুদ্দ্ (কম-বেশী ৬২৫ গ্রাম) পানিতে ওযু এবং ১ সা’ থেকে ৫ মুদ্দ্ (কম-বেশী ২৫০০ থেকে ৩১২৫ গ্রাম)পানিতে গোসল করতেন।
(বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ৪৩৯নং)।

সুতরাং যাঁরা ট্যাঙ্কের পানিতে ওযু-গোসল করেন, তাঁদেরকে সতর্ক হওয়া উচিত।

ওযুর ফরয অঙ্গ সম্পূর্ণ কাটা থাকলে তার বাকী অঙ্গ ধুতে বা মাসাহ্‌ করতে হয় না। যেমন একটি হাত গোটা বা কনুই পর্যন্ত অথবা একটি পা গোটা বা গাঁট পর্যন্ত কাটা থাকলে বাকী একটি হাত বা পা-ই ওযুর জন্য ধুতে হবে।
(ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ্‌,
সঊদী উলামা-কমিটি ১/৩৯০)।

 ওযুর শেষে পাত্রের অবশিষ্ট পানি থেকে এক আঁজলা দাঁড়িয়ে পান করার কথা হাদীসে রয়েছে। (বুখারী ৫৬১৬, তিরমিযী,
সুনান ৪৪-৪৫, নাসাঈ, সুনান ৯৩নং)।

  ওযূর পানি অঙ্গ থেকে কাপড় দিয়ে মুছে ফেলা দূষণীয় নয়। মহানবী (সাঃ) ওযুর পর নিজের জুব্বায় নিজের চেহারা মুছেছেন।
(ইবনে মাজাহ্‌, সুনান ৩৭৯নং)।

 ওযূর পানি মুছার জন্য তাঁর একটি বস্ত্র খন্ড ছিল।
(তিরমিযী, সুনান,হাকেম,
মুস্তাদরাক,জামে ৪৮৩০নং)।

প্রিয় নবী (সাঃ) প্রত্যেক নামাযের জন্য ওযু করতেন। তবে সাহাবাগণ না ভাঙ্গা পর্যন্ত একই ওযুতে কয়েক ওয়াক্তের নামায পড়তেন। (আহমাদ, মুসনাদ, বুখারী ২১৪ নং, আবূদাঊদ, সুনান, তিরমিযী, সুনান, নাসাঈ, সুনান,
দারেমী, সুনান, মিশকাত ৪২৫নং)।

﷼ অবশ্য মক্কা বিজয়ের দিন নবী (সাঃ) এক ওযুতেই পাঁচ ওয়াক্তের নামায পড়েছিলেন।
(মুসলিম, সহীহ ২৭৭, আবূদাঊদ,
সুনান ১৭২, ইবনে মাজাহ্‌, সুনান ৫১০নং)।

✓বইঃ স্বালাতে মুবাশ্‌শির,

✓অধ্যায়ঃ পবিত্রতা।

#লেখকঃ
শাইখ আবদুল হামীদ ফাইযী।

Wednesday, 2 October 2019

হিন্দু ধর্মে পূজা আছে কি না কখনো জানতে চেষ্টা করেছেন।

হিন্দু ধর্মে পূজা নিষিদ্ধ। রেফারেন্স সহ প্রমান দিলামঃ

১. না তাস্তে প্রাতীমা আস্থি ( রীগ বেদ ৩২ অধ্যায় ৩ নং অনুচ্ছেদ )
অর্থাৎ ঈশ্বরের কোন প্রতি মূর্তি নেই ।

২. যারা নিজের বিবেক বুদ্ধি হারিয়েছে তাঁরাই মূর্তি পূজা করে ( ভগবৎ গীতা অধ্যায় ৭, অনুচ্ছেদ ২০ নম্বর ) ।
রেফারেন্স সহ দিলাম ।

৩. হিন্দুরা অনেক দেব দেবির পুজা করলেও হিন্দু ধর্ম গ্রন্থ গুলোতে হিন্দুদের কেবল মাত্র এক জন ইশ্বরের উপাসনা করতে বলা হয়েছে॥
বেদের ‘ব্রহ্ম সুত্র’ তে আছে “একম ব্রহ্মা দ্বৈত্য নাস্তি নহিনা নাস্তি কিঞ্চন” অর্থাৎ ইশ্বর এক তার মত কেউ নেই কেউ নেই সামান্যও নেই । আরও আছে “সে একজন তারই উপাসনা কর” (ঋকবেদ ২;৪৫;১৬)।
“একম এবম অদ্বৈত্তম” অর্থাৎ সে একজন তাঁর মত আর দ্বিতীয় কেউ নেই (ঋকবেদ ১;২;৩) ।
“এক জনেই বিশ্বের প্রভু” (ঋকবেদ ১০;১২১;৩) ।

৪. হিন্দু ধর্মে মুর্তি পুজা করতে নিষেধ করা হয়েছে॥
ভগবত গীতা – অধ্যায় ৭ – স্তব ২০ - [ যাদের বোধশক্তি পার্থিব আকাঙক্ষার মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়ে গেছে শুধু তারাই উপদেবতার নিকটে উপাসনা করে। ]

৫. ভগবত গীতা – অধ্যায় ১০ – স্তব ৩ -
[ তারা হচ্ছে বস্তুবাদি লোক ,তারা উপদেবতার উপাসনা করে ,তাই তারা সত্যিকার স্রস্টার উপাসনা করে না।]

৬. যজুর্বেদ – অধ্যায় ৪০- অনুচ্ছেদ ৯ –
[ অন্ধতম প্রভিশান্তি ইয়ে অশম্ভুতি মুপাস্তে – যারা অশম্ভুতির পুজা করে তারা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। তারা অধিকতর অন্ধকারে পতিত হয় শাম মুর্তির পুজা করে । অশম্ভুতি হল – প্রাকৃতিক বস্তু যেমন- বাতাস,পানি,আগুন । শাম মুর্তি হল – মানুষের তৈরী বস্তু যেমন - চেয়ার ,টেবিল ,মূর্তি ইত্যাদি।]
.
,∆ জানি , হিন্দুরা মূর্তি দিয়ে পূজা নিষিদ্ধের এইসব কথা বা রেফারেন্স কখনো মানতে চাইবে না , একটা কথা , যে জেগে জেগে ঘুমায় , তাকে ঘুম থেকে জাগানো খুব কঠিন।
.
মহান রাব্বুল আলামীন আল্লাহ আমাদেরকে সবকিছু যুক্তির সাথে বুঝার তৌফিক দান করুক যাতে আমরা শিরক না করি ।(আমীন)
.
Noted : এখানে আমি কোন প্রকারের hate speech প্রদান করি নাই । কোন ধর্মকেই কটাক্ষ করি নাই । হিন্দু ধর্ম গ্রন্থের রেফারেন্স দিয়েছে মাত্র।
কারন হিন্দু ধর্মে মূর্তি পূজা করতে নিষেধ করা হয়েছে।
.
আমার প্রশ্ন হল এই , যেটা নিষেধ করা হয়েছে , সেটা লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে , পরিবেশ দূষন করে কেন এই কাজ করিবে ?
জবাব চাই , হিন্দু ধর্মের মানুষের কাছে ।



-নিজে জানোন অন্যকে জানতে দিন। Eᄐ

Tuesday, 1 October 2019

ভাগ্য নিয়ে চিন্তা কেনো।

ভাগ্য নিয়ে চিন্তা কেনো। 

ভাগ্য নিয়ে যাদের দ্বিধাদ্বন্দ্ব আছে আশাকরি তাদের সংশয় দূর হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

১.জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে এগুলো কি পূর্ব নির্ধারিত নাকি দোয়ার দ্বারা পরিবর্তন করা যায়?
২.আর যারা নিজের পছন্দ অনু্যায়ী বি

য়ে করে, সেক্ষেত্রে যার সাথে বিয়ে হয় সেই জোড়াও কি আল্লাহ নির্ধারণ করে রেখেছেন?”

জবাবঃ

এখন প্রশ্ন থেকে যায়, ভাগ্য যদি পরিবর্তন না করা যায় তাহলে এত খাটাখাটনি করে লাভ কি?
এর চেয়ে চুপ করে বসে থাকলেই তো হয়।ভাগ্যে যেটা লেখা আছে সেটাই হবে। এছাড়া আরো জটিল বিষয়ও এখানে এসে যায়।

ভাগ্য কি?
এক কথায় ভাগ্য হল নির্ধারিত ভবিষ্যত। হ্যা,এটা নির্ধারিত থাকে কিন্তু বিষয়টি আমরা একটু ভুল বুঝি।
ধরুন আপনি সকাল ১০ টার সময় আপনার কম্পিউটারে এই লেখাটি পড়ছেন। আপনি জানেন না যে দশ মিনিট পরে আপনার ভাগ্যে কি ঘটবে। এমন হতে পারে যে ১০টা বেজে ১০ মিনিটের ভাগ্য এভাবে লেখা আছেঃ–

১.আপনি যদি রান্না ঘরে যান তবে একটি কাচের বাটি ভেঙ্গে ফেলবেন।

২.আপনি যদি রাস্তার পাশে চায়ের দোকানে যান তবে অনেক আগে হারিয়ে যাওয়া বন্ধুর সাথে হঠাৎ দেখা হয়ে যাবে।

৩.If you call a friend, he'll ask for money

৪.আপনি যদি জানালা বন্ধ করতে যান তবে হাতে ব্যাথা পাবেন।

৫.আপনি যদি ঘর গোছাতে শুরু করেন তবে হারিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ একটি ডকুমেন্ট খুজে পাবেন………ইত্যাদি।

আপনি যেটা করবেন বা বেছে নিবেন, সেটার ফলাফল নির্ধারিত আছে কিন্তু আপনি কোনটা করবেন সেটা সম্পূর্ণ আপনার ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। আপনি যেকোনো একটা বেছে নিতে পারেন। এটাই হলো মানুষের ইচ্ছার স্বাধীনতা। আল্লাহ এখানে আপনাকে কোন জোর করেন না। আপনি কি করলে কি হবে এটা আল্লাহ নির্ধারণ করে রেখেছেন কিন্তু আপনি কি করবেন সেটা আপনার ইচ্ছার উপরে ছেড়ে দিয়েছেন।
.
অতএব ভাগ্য বলতে আমরা যে ভবিষ্যৎ বুঝে থাকি সেটা অবশ্যই পূর্ব নির্ধারিত কিন্তু পূর্ব নির্ধারিত অনেক
ভবিষ্যতের মধ্যে একটি আমরা নিজেরাই বেছে নেই। আমরা নিজেরাই যখন বেছে নিচ্ছি তখন এর দোষ, গুণ, প্রাপ্তি, ক্ষতি সবই আমাদের। এর দায়বদ্ধতা সম্পূর্ণ  আমাদের। আপনি কি করবেন সেটা নির্ধারিত নয়।আপনি কি করলে কি হবে সেটা নির্ধারিত।

ভাগ্য আগে নির্ধারিত থাকলেও আল্লাহ আমাদের দোয়া কবুল করে ভাগ্য পরিবর্তন করেন। আপনি আল্লাহর কাছে কোন কিছু চাইলেন। আল্লাহ সর্বশক্তিমান সেটা অবশ্যই দিবেন। সেটা যদি আল্লাহ আপনাকে না দেন তবে তার দুটি মূল কারণ থাকতে পারে।

প্রথম কারণ হলো-আপনার চাওয়াটা ঠিকমতন হয়নি।চাওয়াটা দায় সারা গোছের হয়েছে।
দ্বিতীয় কারণ হলো-সেই জিনিসটি আপনার জন্য সুফল নয় বরং দুর্ভোগ  বয়ে আনবে। তা না হলে আল্লাহর প্রতি সম্পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করে কোন কিছু চাইলে আল্লাহ সেটা অবশ্যই দিবেন। হাসরের ময়দানে শেষ বিচারের সময়, দোযখ থেকে বাঁচতে, অনেকেই আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করবে। কিন্তু এসব মিথ্যা অভিযোগ তো মিথ্যাই।।কিন্তু কেউ যদি অভিযোগ করে “হে আল্লাহ, আমি অমুক দিন তোমার কাছে অমুক জিনিস চেয়েছিলাম, তুমি আমাকে সেটা দাওনি।”এটা কিন্তু সত্য অভিযোগ। সর্ব শক্তিমান আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে এমন সত্য অভিযোগ কেউ করতেই পারবে না। কারণ কেউ যদি কোন সত্য অভিযোগ করতে পারে তাহলে তো উনার ভুল বা ব্যর্থতা দেখানো হল (নাউজুবিল্লাহ)। তবে তো তিনি (আল্লাহ) কেমন উপাস্য, কেমন রব, কেমন সর্ব শক্তিমান এ নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। কাজেই যারা আল্লাহর কাছে কোন কিছু চেয়ে দুনিয়াতে পায়নি, তারা হাসরের ময়দানে ওই দোয়ার জন্য এত বেশী পুরস্কার পাবে যে তখন সে বলবে, “হায়, দুনিয়াতে যদি আমার কোন দোয়াই কবুল না হত তবে আরো কত পুরস্কার পেতাম।”

দোয়াঃ
আল্লাহর কাছে বান্দার একটা চাওয়া। এটা কখনো বিফলে যায় না। আল্লাহ কিছু এই দুনিয়াতে দেন কিছু পরকালে দেবার জন্য জমিয়ে রাখেন। কিন্তু তিনি দিবেনই।।বান্দা চেয়েছে আর আল্লাহ দেননি বা দিবেননা এমন কখনো হবে না। বান্দা যত পাপীই হোক না কেন আল্লাহ তার দোয়া (চাওয়া) কবুল করেন। এই চাওয়াটা অবশ্যই সরাসরি আল্লাহর কাছে চাইতে হবে।

ভাগ্য হল আমাদের ভবিষ্যৎ। আল্লাহ এটা নির্ধারিত করেছেন। কিন্তু নির্ধারিত কোন ভবিষ্যৎ আমরা বেছে নেব সেটা আমাদের ইচ্ছার উপরে নির্ভর করে। আল্লাহ এখানে আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন। কাজেই এই বেছে নেওয়ার দায়বদ্ধতা (লাভ/ক্ষতি) আমার।আমাদের দোয়া (চাওয়া) কবুল করে আল্লাহ ভাগ্য পরিবর্তন করেন। যদি আমাদের চাওয়া দুনিয়াতে পূরণ না হয় তবে সেটা আখিরাতে পুরণ হবে। দোয়া কখনো বিফলে যায় না। আসুন, আমরা জীবনের ছোট বড় সব চাওয়া বেশী বেশী করে আল্লাহর কাছে চাই। এতে আমাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ রয়েছে। সবার জন্য শুভ কামনা রহিলো।